কেন্দুয়া উপজেলা পরিচিতি
নেত্রকোণা জেলা, ময়মনসিংহ বিভাগ
📍 অবস্থান ও আয়তন
এই উপজেলার উত্তরে নেত্রকোণা সদর উপজেলা ও আটপাড়া উপজেলা, দক্ষিণে কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলা ও ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলা, পূর্বে মদন উপজেলা, পশ্চিমে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ও গৌরীপুর উপজেলা।
📜 নামকরণের ইতিহাস
গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত নেত্রকোণা জেলার দশটি থানার মধ্যে ঐতিহ্যবাহী থানা আমাদের এই কেন্দুয়া। ভৌগলিক অবস্থার বিচারে কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ জেলার সীমানাকে বুকে ধারণ করে পাশাপাশি নিজ জেলাসহ তিনটি জেলার ভাষা, কৃষ্টি, সভ্যতাকে লালন করে কেন্দুয়া আরও মহিমান্বিত হয়েছে। কেন্দুয়া নামকরণের ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী রোয়াইলবাড়ী ও মুজাফরপুরে অবস্থানরত শাসক ও সেনানীদের ঐতিহ্য রক্ষার্থে এবং গোগবাজারে প্রসিদ্ধ পাট ক্রয় কেন্দ্র গড়ে উঠায় বিদেশী ব্যবসায়ীদের আনন্দ ফূর্তির জন্য মুঘল যুগে দিল্লীর লক্ষ্ণৌ হতে বাঈজীরা এসে আজকের থানা সদর থেকে ১ কিঃমিঃ উত্তরে সবুজ গাঁয়ে বাসস্থান গড়ে তুলে। ফরাসীরা এ অঞ্চলে আগমন করে বাঈজীদের এ স্থানটিকে 'কান্দওয়া' বলে সম্বোধন করে। কান্দওয়া শব্দটি ফার্সী এবং এর বঙ্গার্থ সবুজ ভূমি। সেই ফার্সী কান্দওয়া থেকে কালক্রমে কেন্দুয়া নামের উদ্ভব।
🎶 সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
রাজেশ্বরী, পাটেশ্বরী, মেঘনার শাখা নদী, সোমেশ্বরী, সাইদুলী মোহনা কুল ঘেঁষে নদ-নদী, নালা, খাল-বিল, হাওড়, ঝিলে পরিপূর্ণ সৃষ্টিকর্তার এক অপরূপ সৃষ্টি কেন্দুয়ার এ অঞ্চলের মানুষকে করেছে ঐতিহ্যবাহী গায়ক, সাধক, কবি; ফলে এ অঞ্চলের মানুষের মুখেই সৃষ্টি হয়েছে জারী, সারি, ভাটিয়ালী, কবিগান, কিসসা, পালাগান, যাত্রা, ঢপযাত্রা, ঘাটুগান, গাজীর গান, ধামালী গীত, গাইনের গীত আরও বিভিন্ন ধরনের গান।
🌊 ভৌগোলিক তথ্য ও জলাভূমি
সূতী সাইঢুলি নদী, কইজানী সিংগুয়া নদী, পাটেশ্বরী নদী, রাজী খাল, বগাজান বিল, সাকুয়া বিল, নেইট্টা বিল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য জলাভূমি।
🏛 প্রশাসনিক এলাকা
কেন্দুয়া উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন রয়েছে, এবং ৩৩১টি গ্রাম রয়েছে। সম্পূর্ণ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম কেন্দুয়া থানার আওতাধীন।
📌 গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ
- ▪ কেন্দুয়া থানা গঠিত হয় ১৮৯০ সালে।
- ▪ থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে।
- ▪ কেন্দুয়া হানাদার মুক্ত দিবস ৭ ডিসেম্বর।
